আকাশী খাতার রোদ রঙা পাতা

আজকে যদি হঠাৎ করে চিঠি লিখি তোকে

এলোমেলো

মাঝে মাঝে বিষণ্ণ নদীর ধারে পাহারায় বসে রাতচরা পাখি,

ঘুমন্ত মেঘেদের দিকে আক্ষেপ ছুঁড়ে দিতে দিতে,

রেখে যায়, এক টুকরো বিশ্বাস।

তখনও জল থেকে তুলে নেওয়া বাকি,

গোলাপী পদ্ম বা নদীর ছাপ।

গ্রীষ্মের ঝিমলাগা দুপুর আঁচল পেতে সোঁদা গন্ধ বিছিয়ে নিতে নিতে,

মনে মনে ভাবে, এখনও শরৎ অনেক দূর।

মন খারাপেরা তবুও ফেরেনা বাড়ি।

একটুকরো আকাশ শুধু কার্নিশে এসে দাঁড়ায়,

কাশ ফুল হতে চেয়ে।

অজস্র পাখির মতন পরিযায়ী হয়ে বৃষ্টি নামে,

কার জানি বুক আর উঠোন জুড়ে।

কখনও অনেক আকাশ যদি পাই, তোকে আনবো,

কোল পেতে, ঠিক।

তারপর, রাতের বাতাস জুড়ে মায়ের ওমের মতন,

ফুটে উঠবে ভোরের গন্ধরাজ।

মন্তব্য দিন »

দিন-দরিয়া

এক একটা দিন এক একটা নদীর মতন। কখনও মনের ধারে কাছে ঢেউ ঢেউ আলপনা আঁকা থাকে। কখনও চাঁদের রঙের মতন তুই নেমে আসিস ঢেউদের চোখ ধুয়ে। আনাড়ির আবডালে রূপকথা চুপ থাকে নিশিরাতে ভেসে আসা কামিনী ফুলের গন্ধের মতন। এক একটা দিন বড় বেশি মন টানে সিদ্ধার্থ তোমার ছায়ার কাছে। এইসব ঘর বাড়ি পরিজন আবছায়া হয়ে যায় সেইসব দিনে। তখনও আরেক জন্মের দিকে চোখ-মন অভিশাপ দিয়ে যায় নশ্বর মানুষ-জীবন। ফিরে নিও আরেকবার, সব কিছু ধুয়ে গেলে, পরিধান পরিসর পরবাস, মুক্তি দিও।

হিমেল হাওয়ার মতন দিনেরা সব উড়ে উড়ে ঘুরে ফেরে পাকসাট খেয়ে, তোর আঙুল ছুঁয়ে আমার মনের চারপাশে। আলো আলো মেঘ থেকে নেমে আসে থোকা থোকা গুলঞ্চ ফুলের মতন বাসন্তী আলো। বসন্তেও শরৎ এসে বাসা বাঁধে তোর আমার কোল ঘেঁষে। একরত্তি ঘুমিয়ে নেয় নিষ্পাপ প্রাণ, তোর দুপায়ে মাথা রেখে। নিঃশ্বাস ওঠে পড়ে অবকাশ অক্লেশে। কাজে কাজে আড়চোখে মেখে নেয় এছবি এই-মন। ভরন্ত জীবন্ত মায়ার সংসার। তুই, আমি, আর কিছু নিষ্পাপ চোখ।

আকন্ঠ অপেক্ষার নাম, সিদ্ধার্থ; পায়ে পায়ে উঠে গেছে যে নীলকন্ঠ হিম মেশা ভোরে, কুয়াশায় ঢেকে। অসংখ্য অপত্য স্নেহে পড়ে থাকে এক মুঠো চাবি আর শৈশব। জানলার ধার ঘেঁষে ভেসে যায় আসমুদ্র মেঘ আর পরিযায়ী শীত-ছেঁচা পাখিদের দল। উড়ো চিঠি ফিরে আসে ডাকযোগে; ঈশ্বর তোমাকেও চেয়ে নিতে হয়, ভালোবাসা কিংবা ঠিকানা। নতজানু হয়ে শুধু খুঁজে চলা অনন্তের দিকনিশান। তোমার ঘরেও জ্বলে ঘিয়ের প্রদীপ, কুলুঙ্গিতে লক্ষীর ঝাঁপি।

এক একটা দিন এক একটা গাছের মতন। গেঁথে বসে শিকড় বিছিয়ে মাটির কণায় কণায়।

মন্তব্য দিন »

রংছুটের ঘর সংসার

হ্যাঁ মহায়, দিব্যি চাপে আছি। এদিক উদিক নন্তে চত্তে পারিনে, এদিকে নড়লে ক্যাঁও ওদিকে নড়লে ম্যাঁও করে দিচ্চে।। বাড়ি ময় কবিতা-গদ্য-ছড়ায়-ক্ষণিকায় থিক-থিক কচ্চে। ঝাঁট পাট দেওয়াও বন্ধ, যদি ঝ্যাস করে এক দু- লাইন হারিয়ে যায় তাইলে আমার ঘাড়ে কটা মাতা। ইদিকে ধুলো বালি ওড়া-উড়িতে, হ্যাঁআআআআচ্চোওও।। কি বলবো ভাই সেদিন ভুল করে লাইট জ্বালতে গিয়ে পাখার সুইচ অন করে ফেলেছিলুম।। তাপ্পর এক ঘন্টা দম বন্দ করে ইদিক উদিক দেখে নিলুম কেউ জানতি পাল্লো নাতো। তাচ্চেয়েও বড় কতা লেখা মেখা সব যে যার জায়গায় গিঁট্টুলি পাকিয়ে বসে আচে তো? ভেবেই তালু আলু হয়ে গেচে। আমি আর আমার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড মিলে চিরুনি তল্লাশি করে হাঁটকে মাটকে হিসেব মিলিয়ে দেখে শুনে নিতে গিয়ে, আই-ব্বাপ্পাপাআআ… ওটা কে?? ওমা কেউ না, এযে আমি, খাটের নিচের ঝুল-মুল মেখে, যাকগেহহ, সেসব কতা থাক…

তো হ্যাঁ, যা বোলচিলুম, ওই চাপ বোলে চাপ… বাপরে বাপ, এই চাল রাখচি, ওই দেখচি সেখানে চিঁড়ে হয়ে গেছে। যারা সব কি জানি কি কচ্চে, তাদের চ্যায়রা খানা যে কি খোলতাই হয়েচে সে আর নাই বোল্লুম। এইত্ত সেদিন পাড়ার নিত্যিদেনের আহ্লাদি ভুলু পজ্জন্ত ঘাঁউ-ঘাঁউ করে চোর মনে করে চিল্লে মিল্লে পাড়া মাতায় কল্ল, (কি লজ্জা কি লজ্জা)… মাথার চুল কাগের বাসা, গায়ের রঙ আলকাতরা, চোখ দুটোয় দুটো জবা ফুল বনবনাচ্চে, খাওয়া নেই, ঘুম নেই, জীবনে শান্তি নেই, ইত্যাদি ইত্যাদি। বোললে বিশ্বেস করবেন না, সেদিনকে কি জানি কি জিজ্ঞেস করিচি, বলে কিনা, “আপনি কে দিদি, আপনাকে তো ঠিক চিনলেম না”… আমি তো খাবি-বিষম খেয়ে রেগে ঝেঁপে একসা হয়ে, চাট্টে আইসকিরিম মুখে ঢেলে কোলা ব্যাঙের মতন গলা ফুলিয়ে ব্যোম হয়ে বসে রইলুম।

পোলাপানেরা সব দিনের পর দিন নাগাল না পেয়ে পেয়ে হাপিত্যেশ করে থেকে থেকে শেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে ভাবচে মার সাথে মামার বাড়ি চলে যাওয়াই ভালো কিনা। উদিকে কিন্তু নো-হেল-নো-দোল, ভোলে বাবা পার করেগা টাইপ হালচাল। এই আজ সকালেই ছোটমেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে পাশে শুইয়ে দিয়ে বোল্লুম, একটু নজর রেখো আমি হাতের কাজগুলো সেরেনি। ওমা খানিক পড়ে সন্দেহজনক শব্দাদি শুনে এসে দেখি, ৩ মাসের মেয়েকে পজ্জন্ত বই ধরিয়েচে। ছানাপোনাদের ইহকাল পরকাল সব ঝ্যারঝ্যার করে খসে পড়ে যাচ্চে চোকের সামনে দেকচি, কিন্তুক কিচ্ছুটি কত্তে পাচ্চিনা। বোল্লে পেত্যয় পাবেননি আপনারা, কালকে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ফেল্লুম শেষ মেশ, যে, বাড়ির লোকজন তো বটেই পাড়া প্রতিবেশি মায় বাজারের চেনা মাছওলা সুজিতদাদা, সব্জিদা কমলও সব বিক্কিরিবাট্টা বন্ধ রেখে খুব গম্ভীর হয়ে চোখে চমশা এঁটে বই-এর পাতা ওল্টাচ্চে আর উঁহু উঁহু করে মাথা নাড়চে। আর আমি একটা রোগা পাতলা ঘেউ হয়ে মাতা নিচু করে অপরাধী অপরাধী মুখ করে তালু শুকিয়ে কান লেপতে বসে বসে ন্যাজ নাড়াচ্চি।

এই হল গিয়ে আজ পজ্জন্তকার খপর। বইমেলা আসতে আসতে বেঘোরে পেরানটা ৩০৮ নং পটলডাঙ্গায় রাম-ছুট দেয় কি না দেয়… তাই আগে থাকতে আপনাদের সালিসি মেনে গেলুম।

(পুনশ্চঃ এবছর রংছুট কোলকাতা বইমেলায় লিটিল ম্যাগ প্যাভিলিয়ন ছাড়াও ৩০৮ নং স্টল, “এখন বিসংবাদ”, এ পাওয়া যাবে। দেখা হচ্ছে বইমেলায়  )

মন্তব্য দিন »

ফিরবে সে

দক্ষিণাবর্তের আগে পৃথিবীর অক্ষরেখা ধরে

ফিরবে সে,

জোনাকির আলোঘুমে অঘোরে অচেতনে অবচেতনে

ফিরবে সে,

ধিকিধিকি জ্বলে থাকা কুয়াশা আগুনের তাপ নিয়ে

ফিরবে সে,

তারপর

তারও অনেক পরে একবুক নিঃশ্বাসে তোর গন্ধ হয়ে

ফিরবে সে,
তবু ফিরবে সে…

মন্তব্য দিন »

ভালো থেকো

ঠিক যেমনভাবে বছর ১৫ আগে কোনও সুর চোখ ভেজাতো, মাঝের অনেক ওঠা পড়ার পর এপিঠ ওপিঠ বদল হয়েও কোন এক ভোরে সেই এক সুর যখন একই রকম ভিজিয়ে দেয় চোখ মন আর সুখ, তখন মনে হয় কোথাও কোনোখানে লুকিয়ে থেকে গেছে এক চিলতে না-বদলি আকাশ।

চোখ বন্ধ করলেই ফিরে আসে না-ফেরত সময়। অন্য রকম হয়ে যায় দিন। শীত শুরুর নরম রোদে লাগে ইলশেগুঁড়ির ওম মাখা শরতের আলো।

এসব দিনের জন্য, এসব সুরের জন্য যেন দুর্মূল্য হয়ে ওঠে জীবন। বেঁচে থাকাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে আবার।

এইভাবে ফিরে আসে ভালোবাসা এশহরের আনাচে কানাচ ধরে, ছাতারের ডানায় ভর করে, উবুচ কুবুচ জংলা চারাদের পাতায় পাতায়।

ভালো থেকো ভালোবাসা।

 

একটা বাড়ি ছিলো। সে বাড়িটার কোনো ছবি নেই। শুধু অনেক ভালোবাসা আকর করে আঁকড়ে জড়িয়ে আছে সেই বাড়িটার সব খানে। উঠোন, ছাত, বাগান, খড়খড়ি জানলায়, কড়িবরগার খাঁজেখাঁজে, কুয়োতলায়, ঠাকুরঘরে, আকাশ পিদিমে, চিলেকোঠায়, জমে আছে পরত পরত ভালোবাসা, রোদ্দুরে শুকোতে দেওয়া মিঠে মিঠে আমসত্ত্বের মতন। সে বাড়িটা বড় ভালো।

আমি কিন্তু দেখতে পাই রোজ, রোজ রাতে সে বাড়িটা আর সব ফেলে আসা বাসাদের নিয়ে বাস করে আমার স্বপ্নের আবাসে।
সে সব বাড়ির গন্ধ বড্ড মন কেমন করা, ঠিক জানি, আম্মার হাতের কপ্পুর-ডালের বড়ি-ধুপ বা দাদুর তৈরি কস্তুরী আতরের মন কেমন গন্ধ।
কোন কোন শীতের দুপুর সেই সব ভালোবাসার টানে এ শহরে উড়িয়ে আনে শীতের পরিযায়ী পাখি, ঘুম ভেঙে উঠে বসে আনমনা মন।

ভালো থেকো ভালো বাসা।

2 মন্তব্য »

The Nomadic Soliloquist

Figments of obscure visions: borne from the soul, conveyed through the heart, absorbed in the mind, and imperfectly bound by their chaotic interactions.

meghbalikargalpo

This WordPress.com site is the cat’s pajamas

My Blog

The greatest WordPress.com site in all the land!

পলাশ মাহমুদ

নিত্যদিনের এলোমেলো গদ্য লেখালেখি ব্লগ

River Mangrove Are The Life Of Climate.IS.

Climate, Cop22,Bangladesh,Sudan,Caribbean,Australia,Siberia,Tuvalu,Great barrier Reef,Alps,Britain AND SAVE THE EARTH

এবিএম সোহেল রশিদ

আমি আমাকে খুঁজি বর্ণমালায়

E-codehoster IT Solution

A Complete outsourcing solution

বইপোকার খেরোখাতা

নিজের মনেই আবোল-তাবোল

Work We Want 2015

We Make Us কথায় নয় কাজে ইনশাআল্লাহ।।

banglapost.wordpress.com

Online Entertainment

azad24.com

azadsylhetbd

বাংলা ব্লগ হিমেল হাওয়া

গান,ফান,কবিতা,আড্ডা,ভালোবাসা,এস এম এস,গল্প,জোকস,সহ অনেক কিছু নিয়ে আমাদেরে এই ব্লগ

Fake-plastic Superhero

চাইনা যা পাই, পাইনা যা চাই

Memoirs of a Dragon

Dragon Thoughts and Quantum Musings

ঘুমকাব্য

This Blog is all about Movie, Music n Days...

মন পবনের নাও

Just another WordPress.com weblog

গোধূলি লগনে

রাঙ্গিয়া উঠিলে তুমি কাহারে দেখিয়া

শব্দপুঞ্জ

কখনো স্ফুলিঙ্গ, কখনো বরফকুচি ...

HODGEPODGE

a solemn punch

প্রচেষ্টা

সৃষ্টির আনন্দে আমাদের প্রচেষ্টা

সনাতন বাঙালি

মানুষ তাঁর স্বপ্নের সমান বড়

খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম। অক্ষর চাষীর শব্দ কারখানা

পাথেয়

ভিতর ও বাহিরের পরিচয়

সূর্য গুপ্ত

............ জীবন পুরের পথিক রে ভাই

একজন চন্দ্রাহত প্রেমিক ...

আমি একটা পাগল !! হুস কাউরে বইলেন না !!

পথহারা পথিক

আঁধারের পথে হেঁটে চলা এক পথিক। আলোর খোঁজে ছুটছি নিরুদ্দেশ......

অগ্নিপথ

সত্য সমাদ্ধৃত, মিথ্যা অপসৃত

ভোরের ব্লগ-বাঁধনের মুক্তআকাশ

সারা দিনের খোলা বাতায়ন...

মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস এর কালির আঁচড়

জড়ো হ‌ওয়া শব্দের অভয়াশ্রম

panaecea

A Series Of Soul Bytes Just For You

Gongaforing's Blog

Just another WordPress.com weblog

কিছু ছেঁড়া পাতা

- পড়ে থাকে এলোমেলো হয়ে, কিছু বা উড়ে যায় পথে গড়িয়ে........

ছোট ছোট কথামালা

সাহাদাত উদরাজী

রুমান'স ব্লগ

যেখানে পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ সম বিস্তৃত

out of home

Just another WordPress.com site

ফিসফাস (Fisfas- Bangla Blog)

Something Fishy and so much fussy

ডাইরির পাতা থেকে

যে মন যখন যেমন সে মন তখন তেমন...

Search Blogs

Just another WordPress.com weblog

ফুটোস্কোপ

আয় তোর মুন্ডুটা দেখি